টাঙ্গাইলের শীতের আগাম সবজি ও পেঁয়াজের বাজার চড়া বিক্রি হচ্ছে

প্রকাশিত

খায়রুল খন্দকার টাঙ্গাইল : শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলাসহ আরও অনেক সবজিতে টাঙ্গাইলের বাজার ভরে গেছে। চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশির ভাগ সবজি। বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এ নিয়ে কষ্টে আছেন সাধারণ মানুষ।
সরোজমিনে আজ শনিবার (৩০ নভেম্বর) টাঙ্গাইল শহরের বাজারগুলো ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা কয়েক সপ্তাহ ধরেই আগাম বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু শিমের দাম কিছুটা কমেছে। তবে এখানে এ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে। শীতের সবজি শিম ও টমেটো ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য কোনো সবজি ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ জেলার কয়েকটি উপজেলা সবজি উপাদনের বিখ্যাত হলেও এখানকার সবজির বাজার চড়া থাকায় ক্রেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বর্তমানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম চড়া থাকলেও দ্রুতই দাম কমে যেতে পারে।
টাঙ্গাইলের পার্ক বাজার, ছয়আনি বাজার, বটতলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি শিম ৭০-৮০ টাকা ও টমেটো ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শিমের পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলা। ছোট আকারের প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। বরবটি (৫০-৬০), বেগুন (৩০-৪০), পটোল (৪০-৩৫), কাকরোল (৬০-৭০), ঢ্যাঁড়সের দামও চড়া। বেগুন ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপশি শাকের বাজারও তুলনামূলকভাবে চড়া। পার্ক বাজার সবজি কিনতে আসা ক্রেতা শরীফুল ইসলাম বলেন, বাজার ভর্তি সবজি। অথচ বাজার করতে এসে জিনিসের দাম দেখে হতাশ। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে পেঁয়াজের দামও। এসবের দিকে বাজার কর্তৃপক্ষের সঠিক নজর দেয়া উচিত। পার্ক বাজার সবজি ব্যবসায়ী রাশেদ মিয়া বলেন, কিছুদিন ধরে শীতের সবজি বাজারে আসছে। তবে দ্রব্যমূল্য বেশি দাম দিয়ে কিনে আনতে হচ্ছে। তাই কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। যেহেতু আস্তে আস্তে শীতের সবজির সরবরাহ বাজারে বাড়ছে। তাই তাদের ধারণা কয়েক দিনের মধ্যে সবজির দাম কমবে। এদিকে পেঁয়াজের বাজার অস্বস্তি এখানো কাটনি। চলতি মাসের শুরুতে ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেলেও মাঝে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও পেঁয়াজের বাজার অস্থিরতা চলে আসে।
টাঙ্গাইলে বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, ২১০-২২০ টাকা কেজি দরে পুরাতন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নতুন পেঁয়াজ ১৩৫ টাকা, মিশরের পেঁয়াজ ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় বাজারের খুচরা বিক্রেতা কামরুল মিয়া বলেন, পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তাদের বেশি দামে কিনতে হয়েছে। সেজন্য বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতারা অসন্তোষ হলেও তাদের করার কিছু নেই। শহরের পার্ক বাজারের পেঁয়াজ কিনতে আসা সাত্তার মিয়া নামের একজন ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজের দাম এখন আকাশছোয়া হয়ে গেছে। চলতি মাসের শুরুতে দাম ৫০-৬০ টাকা থাকলেও মধ্যে ৩০ টাকায় নেমে আসে। এখন তা বেড়ে ৭০-৮০ টাকা হয়ে গেছে। এটি মেনে নেয়া কষ্টকর। কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পার্ক বাজার ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা বলেন, শুধু পার্ক বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে না সারাদেশেই একই অবস্থা। পাইকারি ব্যবসায়ীদের বেশি দরে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বিক্রেতাদের বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।