ঝালকাঠিতে সরকারি গাছ বিক্রি করে বনবিভাগ কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানের ভাগবাটোয়ারা

প্রকাশিত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি-

ঝালকাঠিতে ঘূর্নিঝড় বুলবুলের আঘাতে রাস্তার পাশে পড়ে যাওয়া সরকারি গাছ বনবিভাগ কর্মকর্তার যোগসাজশে বিক্রি করে গাছ বিক্রির টাকা বনবিভাগ কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যান মিলে ভাগাভাগীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলাধীন ১নং গাভারামচন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা মাছুম শেরোয়ানী ও বনবিভাগের সদর উপজেলা কর্মকর্তা জিয়া বাকলাই উপজেলার গুহুদেরহাট বাজার থেকে গুয়াচিত্রা সড়কের দু’পাশে সরকারি বিভিন্ন প্রকার গাছ ঘূর্নিঝড় বুলবুলের আঘাতে পড়ে গেলে স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ীদের দ্বারা গাছ কেটে কোন টেন্ডার ছাড়াই নাম মাত্র মূল্যে বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগী করে নেয়ার অভিযোগ ওঠে।

অনুসন্ধানে জানাযায় জেলার সদর উপজেলাধীন গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের গুরুদের হাট থেকে গুয়াচিত্রা সড়কের দুপাশে রোপন কৃত শিশু, আকাশমনি, কেলিকদম ও মেহগনি গাছ ঘূর্নিঝড়ে বুলবুলের আঘাতে পড়ে যায়। রাস্তার পাশে পড়ে যাওয়া গাছগুলো ঝালকাঠি বন বিভাগ কর্মকর্তা জিয়া বাকলাই পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শন শেষে স্থানীয় গুহুদেরহাট এলাকার গাছ ব্যবসায়ী দুলালের সাথে লাকড়ি চুক্তিতে গাছ কেটে শাহ মাহ মুদিয়া কলেজের সীমানা প্রাচীরের নিকট নিয়ে রাখেন। গত ২০ নভেম্বর বনবিভাগ কর্মকরতা জিয়া বাকলাই এসে ১নং গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাছুম শেরোয়ানীকে সাথে নিয়ে প্রায় অর্ধলক্ষাধীক টাকা মূল্যের সরকারি গাছ কারো তোয়াক্কা না করে টেন্ডার ছারাই স্থানীয় গাছের ব্যবসায়ী আলাউদ্দীনের নিকট বিক্রি করেন। তাদের বিক্রি করা গাছ আলাউদ্দীন কলেজের সামনে থেকে নিয়ে যেতে চাইলে সেখানে কলেজের অধ্যক্ষ বাধা প্রদান করলে গাছ ব্যবসায়ী গাছ রেখে চলে যান। গত ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী আলাউদ্দীন ইটের ভাটার লাকড়ি দেয়ার কথা বলে ট্রলিতে গাছ ভরার সময় ট্রলি ড্রাইভারের কাছে গাছ কোথায় নেয়া হচ্ছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গাছগুলো আলাউদ্দীন ভাই নিতে বলেছে এখান থেকে আমরা ইটের বাটায় নিয়ে যাবো। ঘটনাস্থান থেকে ঝালকাঠি বন বিভাগ কর্মকর্তা জিয়া বাকলাইয়ের কাছে তার মুঠোফোনে গাছ বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গাছ সংগ্রহের জন্য যাদের মাধ্যমে কাজ করানো হয় তাদের কিছু অংশ গাছ ভাগে কাজ করতে দেয়া হয়। আর গাছগুলো ঠিক তেমনি করেই তাদেরকে গাছ কেটে লাকড়ি নিয়ে যেতে বলা হয়েছে আর গাছগুলো ঝালকাঠিতে নিয়ে আসতে বলা হয়েছিলো।

এ বিষয় গাছ ব্যবসায়ী দুলালের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কিছুদিন আগে ঝালকাঠি থেকে বন বিভাগ কর্মকর্তা জিয়া ভাই আমাদের এলাকায় আসে এবং সে আমাকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা গাছগুলো লাকড়ি ভাগে কেটে দিতে বলায় আমি গাছগুলো কেটে দিয়ে একস্থান রাখি। পরে সে এলাকায় এসে ইউপি চেয়ারম্যানের সম্মুখে গাছ গুলো স্থানীয় আরেক গাছ ব্যবসায়ী আলাউদ্দীনের কাছে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে এবং গাছ বিক্রির টাকা থেকে তাৎক্ষনাৎ চেয়ারম্যানকে ১০ হাজার টাকা দেয়। ১০ হাজার টাকা থেকে শাহমাহমুদিয়া কলেজে ৫ হাজার টাকা দিতে বলে। পরে আমি জিয়া ভাইকে গাড়ীর তেল খরচ বাবদ ৫০০ টাকা দিলে সে চলে যায়। গাছ বিক্রি ও টাকা ইউপি চেয়ারম্যান ও বনবিভাগ অবসর প্রাপ্ত কর্মচারী আ: গফুর সহ উপজেলা বনবিভাগ কর্মকর্তার মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করার বিষয় সদর উপজেলা বনবিভাগ কর্মকর্তা জিয়া বাকলাইর মুঠোফোনে কল দিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি গাছ বিক্রির কথা অস্বীকার করে জানান, গাছ বিক্রি করা হয়নি শুধু লাকড়ি দেয়া হয়েছে আর গাছ গুলো ঝালকাঠি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে তবে আমি বিষয় দেখছি।

একদিকে গাছ বিক্রির কথা উপজেলা বনবিভাগ কর্মকর্তা অস্বীকার করলেও অপরদিকে শাহ মাহ মুদিয়া কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম তালুকদারের নিকট তার মুঠো ফোনে গাছ বাধা দেয়া এবং গাছ বিক্রিত টাকার বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কলেজের পার্শবর্তী রাস্তাটি গুরুদের হাট থেকে গুয়াচিত্রা পর্যন্ত এ রাস্তার দুপাশে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত সৈয়দ জাহাঙ্গীর হোসেন চেয়ারম্যান থাকা কালীন সময় গাছের চাড়া রোপন করে কলেজের তত্ত্বাবধানে দিয়েযান। সেই থেকে কলেজ কতৃপক্ষ গাছগুলো দেখে শুনা করে আসছে। গত ২৭ নভেম্বর গাছ গুলো স্থানীয় ব্যবসায়ী নিয়ে যাচ্ছ শুনতে পেয়ে আমারা বাধা দেই। পরে ইউপি চেয়ারম্যান আমার কাছে ফোন দিয়ে গাছ নেয়ার কাজে বাধা প্রদানের কারন জানতে চাইলে আমি তাকে বলি, গাছগুলো কলেজের তাই আমি বাধা দিয়েছি এ কথা বলার পর চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে জানায় গাছ গুলো বিক্রি করা হয়েছে আপনার জন্য ৫ হাজার টাকা আছে পরিষদে এসে নিয়ে যাবেন। আমি তাকে বললাম আপনি গাছ বিক্রি করলেন তা আমি জানলাম না, কত টাকা বিক্রি করলেন তাও জানলাম না, আমি গাছ নেয়ায় বাধা দিয়েছি আপনার কিছু বলার থাকলে কলেজের সভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান, আপনার কিছু বলতে হলে তাকে বলুন।