বোয়ালমারীর সাতৈর উচ্চ বিদ্যালয় নির্বাচনী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগসাতৈর উচ্চ বিদ্যালয় নির্বাচনী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত

বোয়ালমারী প্রতিনিধি-ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নম্বর জালিাতি করে প্রায় সকল শিক্ষার্থীকে পাশ করানো হয়েছে। এ ব্যাপারে স্কুল পরিচালনা পর্ষদের তিনজন সদস্য মো. জয়নাল আবেদিন, সেলিমুল হক ও রাশিদা উপজেলা নির্বাহী অীফসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে ইউএনও, সহকারী কমিশরারকে (ভূমি) দিয়ে নির্বাচনী পরীক্ষার সাধারন গণিত ও ইংরেজি খাতা জব্দ করিয়েছেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর নির্বাচনী পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় ১৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭৩জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। এতো বেশি পরিমান শিক্ষার্থী পাশ করায় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসহ অভিভাবকগণ বিষ্মিত হন। পরে খোজ নিয়ে জানতে পারেন ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে প্রতি বিষয়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে গণহারে পাশ করানো হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, নিয়োগকৃত নিয়মিত শিক্ষকদের দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করাতে হবে, কোন অস্থায়ী বা খন্ডকালিন শিক্ষক দিয়ে নয়। এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রধান শিক্ষক খন্ডকালিন শিক্ষক ও করণিককে দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী চৌধুরী অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খাতার উপরে কোড নম্বর দেওয়ার কারণে কোন শিক্ষার্থীর খাতা তা জানার উপায় নেই। গণিত শিক্ষক বিঞ্চুপদ ভদ্রের বিরুদ্ধে পরীক্ষার হলে তাঁর প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের বলে দেওয়ার অভিযোগ আছে। অন্য শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের কারণে তাকে খাতা মূল্যায়ন করতে দেওয়া হয়নি। ইংরেজি শিক্ষক ছুটিতে ছিলো। তাই খন্ডকালিন শিক্ষক দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। কোন প্রকার অনিয়ম জালিয়াতি হয়নি। টাকা নেওয়ার কোন বিষয় তাঁর জানা নেই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহিম বলেন, জব্দকৃত খাতা অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সাধারন গণিতে ১৭৩জনের পরিবর্তে মাত্র ৫৮জন পরীক্ষার্থী পাশ করেছে। ইংরেজির ফলাফল জানা যায়নি।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সৈয়দ সাহিদুর রহমান সজল বলেন, কোড নম্বর দিয়ে খাতা দেখা হয়েছে, অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। শত্রুতামূলকভাবে দরখাস্ত করা হয়েছে। গণিতের দুইজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় খন্ডকালিন শিক্ষক দিয়ে খাতা দেখানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝোটন চন্দ বলেন, তদন্ত প্রায় শেষে দিকে। তদন্ত শেষে জানা যাবে কোন অনিয়ম হয়েছে কি না, হলে তা কতটুকু ? অনিয়মের মাত্রা বুঝে স্থানীয় বা উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ###