শালা…চাঁদ উছেছিলো গগনে.. ! নেট দুনিয়ায় ভাইরাল- রোদ্দুর রায়

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার-

সোশ্যাল মিডিয়ায় আছেন তো! তাহলে ‘‌ইন্টারনেট সেনসেশন’ রোদ্দুর রায়কে চেনেন নিশ্চয়ই! ওর একেকটা গান ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে, সুনামি এনেছে… রোদ্দুর রায়ের বিখ্যাত সব সৃষ্টির মধ্যে চাদ উঠেছিলো গগনে… ‘আমি কোকোনাট ম্যান’, ‘আমারও পরাণ যাহা চায়’, ‘আগুনের পরশমণি’, ‘একটি মশা ও মাছি’ ইত্যাদি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। গান, কবিতা, আলাপচারিতা— সব মিলেমিশে এক অনবদ্য মশলাদার উপাদান। শেষ পর্যন্ত গান,কবিতা কিছুই থাকলো না।

কে এই রোদ্দুর রায়? কলকাতার ইন্টারনেট জগতে দারুণ এক পরিচিত নাম রোদ্দুর। অন্তত ভারতের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম তাই জানাচ্ছে। মূলত রবীন্দ্র সঙ্গীতকে বিকৃত করে গাওয়ার জন্যই তাকে মানুষ চেনে কিংবা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন এই রোদ্দুর। বাংলা অঞ্চলে ইন্টারনেট দুনিয়ায় সাড়া জাগানো অন্যতম ‘ইউটিউবার’দের মধ্যে তিনি অন্যতম। অবশ্য কলকাতায় রুমা ঘোষ আর স্যান্ডি সাহা একইভাবে পরিচিত। যেমনটা বাংলাদেশের হিরো আলমের পরিচিতি ঘটেছে।

রোদ্দুর রায় হাসির পাত্র। খোরাকেরও। তাঁর গানের ভঙ্গিতে, কথায়, উচ্চারণে মানুষ বিরক্ত হয়, মজা পায়। বেশিরভাগ লোকই বলেন, ‘ট্রেন্ডিং’ হতে চেয়ে তাঁর এমন হাবভাব। স্রেফ ‘ফুটেজ’ খাওয়ার জন্য। এক অর্থে দেখলে খুব ভুলও নয়। একজন মানুষ নিজের মতো বেসুরো গাইছেন, অঙ্গভঙ্গি করছেন, নাচছেন, গালাগাল দিচ্ছেন। আমাদের অভ্যস্ততায় তা মেনে না নেওয়াই স্বাভাবিক।

মেক্সা মিউজিক সম্পর্কে হয়তো আমরা অততা অবগত নই। সামাজিক বিধিনিষেধ, গণ্ডি, বাঁধাধরা পথ ভেঙে, নিজের মতো করে পরিবেশন করা গান তাই এই ধরনের মিউজিকের বৈশিষ্ট। তাতে ব্যাকরণ মানা হোক বা না হোক, ক্ষতি নেই। ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন’-এর ধারণা বা চল নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমে একাধিক শিল্পী এর প্রয়োগ করেছেন। বাংলাতেও বিরল নয় সেই উদ্যোগ। বলা যায়, মোক্সাগিরি সেই ধারারই নবতম সংযোজন।

কিন্তু বাঙালির তথা বিশ্বের সকলের প্রিয় রবি ঠাকুর কে নিয়ে তিনি যে কাজ করছেন এটা সত্যি খুব বাজে। যার গানে পৃথিবীর লোক মোহিত হয়ে যায় রোদ্দুর রায় তার গানের সাথে এক কোথায় ছেলেখেলা করছেন। বাঙালীর ভাবাবেগ কে নিয়ে খেলছেন। এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না।

কিছুদিন আগে কলকাতার এক নামকরা কলেজের সোশ্যালে এই ব্যাঙ্গাত্মক গান হাওয়া হয়,এছাড়া ইডেনে ম্যাচ চলাকালীন কিছু যুবক এই গান পরিবেশন করে যাতে রবীন্দ্রপ্রেমী সংস্থা এই অনাচার আর না সয়ে আইনি পথে হাটা দেয়।

সুমন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাঙালি একটি আত্মঘাতী জাতি। রবীন্দ্রনাথ বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম রূপকার তাঁর গানে গালাগালি ঢুকিয়ে যে নোংরামি লোকটি (‌রোদ্দুর রায়)‌ শুরু করেছে, তার প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’

৩০ নভেম্বর রবীন্দ্রসদনে বিবেকের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ সভাও ডাকা হয়েছে। এই সভার পরই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানো হবে।

এই গানের সাথে যেভাবে বাজে শব্দ জুড়ে গানগুলোকে রোদ্দুর রায় পরিবেশোন করছেন সেগুলো যুবসমাজ হুজুগে গ্রহন করছে কিন্তু এর ফল ভবিষ্যতে মারাত্মক হবে এই আশঙ্কা করছেন রবীন্দ্রপ্রেমীরা।