টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের কারণে রোগীদের ভোগান্তি

প্রকাশিত

শেখ রাজীব হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে অবস্থিত দেশের স্বনাম ধন্য শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতাল (টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল)। এখানকার চিকিৎসা সেবার মান ভালো থাকলেও শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাষ্টার সরকারি হাসপাতালের স্বনাম নষ্ট করার লক্ষ্যে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে সরকারি হাসপাতাল ঘেষেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রাইভেট ক্লিনিক। এসমস্ত প্রাইভেট ক্লিনিকের দালালরা ও বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক ভিড় জমাচ্ছে সরকারি হাসপাতালে। তারা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে রোগীদের ফাঁদে ফেলার এক্ষেত্রে ডাক্তারদের মন জয় করা তাদের কাছে প্রধান বিষয়। যার ফলে প্রাইভেট হাসপতালের প্রতিনিধিদের কারনে রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের আশপাশে অবস্থিত বেসরকারি ক্লিনিকের প্রতিনিধিরা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সরকারি হাসপাতাল স্টাফদের যোগসাজশে কয়েক শতাধিক প্রতিনিধি এখানে তৎপর রয়েছেন।
টঙ্গীতে আর কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষ স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসা নিতে ছুটে আসেন সরকারি হাসপাতালে অথচ চিকিৎসা নিতে আসা এসব রোগী প্রাইভেট হাসপাতালের প্রতিনিধিদের খপ্পরে পড়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে হাসপাতাল গিয়ে জানা যায়, উত্তরাসহ টঙ্গী স্টেশন রোডের বেশ কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনিষ্টিক হাসপাতালের প্রতিনিধিরা সরকারি হাসপাতালের ভিতরে ও মূল ফটকে বসে থাকে এবং রোগী আসতে দেখলেই টানাটানি করতে থাকে। তাদের হাসপাতালের বিভিন্ন পরিক্ষার সিলিভ সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের চেম্বারে দিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের রোগীরা বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের কিছু দালাল প্রতিনিয়তই হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে ঘুরে বেড়ায়। গরিব ও অসহায় রোগীদের বিভিন্ন সেবা মূলক সুবিধা সমন্ধে বুঝিয়ে নিয়ে যায়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীরা যখন এদের আচরণ সন্দেহ জনক বুঝতে পেরে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করে তখন এসমস্ত দালালরা যে আচরন করে তা নিতান্তই ভায়াবহ। কিছু সময় অসহায় গরিব রোগীরা দালালদের প্ররোচনায় পরে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তার বিল পরিশোধ করতে গিয়ে পথে বসে যায়। সরকারি হাসপাতালে কোন রোগের পরিক্ষা করাতে যা খবচ হয় তার চেয়ে তিনগুন খরচ হয় বেসরকারি ক্লিনিক গুলোতে। সরকারি হাসপাতালের কিছু সংখ্যক স্টাফ ও ডাক্তার এর সাথে জড়িত। তারা এ কাজের জন্য প্রতিমাসে মোটা অংকের একটা কমিশন তাদের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। ডাক্তার দেখানোর পর রোগীরা বের হলে ডাক্তারের রুমের গেইটের সামনে থেকে শুরু করে শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালের মুল ফটকের সামনে পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রায় এক থেকে দেড়শতাধিক প্রতিনিধিরা ও দালালরা জোর পূর্বক হলেও রোগীদের হাতে থাকা ঔষধের স্লিপ ক্রমান্বয়ে দেখতে থাকে ও হাতে থাকা মুঠোফোনে স্লিপের ছবি তুলতে থাকে। এর ফলে ইমারজেন্সী রোগীদের ভোগান্তিতে পরতে হয়। এছাড়া রোগিরা আভিযোগ করে বলেন এখানকার পরিবেশ দিন দিন অপরিছন্ন হয়ে যাচ্ছে দুর্গন্ধে টয়লেটের আশপাশে যাওয়া যায়না, খাবারের মান খুবই খারাপ। এখানে ভর্তি থাকা বহু রোগীই বাহির থেকে খাবার এনে খান। ডাক্তাররা রোগীদের বলেন, সকাল আট টা থেকে নয়টার মধ্যে যেন সকালের খাবার খাওয়া হয়। বেশিরভাগ সময়েই নির্ধারিত সময়ে রোগীদের খাবার দেওয়া হয় না।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, প্রাইভেট ক্লিনিকে এখান থেকে পরিক্ষার কোন সিলিভ দেওয়া হয়না। তারা যদি বাহির থেকে নিয়ে থাকে তাহলে তাদের ব্যপার।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. পারভেজ হোসেন বলেন, দিন দিন বাড়ছে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ফলে দালালও বাড়ছে। দালালদের ব্যপারে জিরো তলারেন্স। দালালদের জন্য কয়েকবার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এখনো আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করছি প্রয়োজনে এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সহায়তা গ্রহন করবো। এই হাসপাতলে সে পরিক্ষাগুলো হয় এখানকার কারো মাধ্যমে সেগুলো যদি প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানো হয় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।