১৫ই ডিসেম্বর গাজীপুরে শহীদ ফরহাদ হোসেন খান দিবস

প্রকাশিত

সুজন সারোয়ার,টঙ্গী প্রতিনিধি-১৫ই ডিসেম্বর গাজীপুরে শহীদ ফরহাদ হোসেন খান দিবস
টঙ্গী প্রতিনিধি ঃ ১৫ই ডিসেম্বর গাজীপুরের সাবেক কাশেমপুর ইউনিয়নে এই দিন সকাল ১১টায় পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সরাসরি যুদ্ধ চলাকালিন সময় শত্রুর মোকাবিলা করতে গিয়ে শহীদ হন ফরহাদ হোসেন খান। আজ রবিবার প্রতিবছরে মত ১৫ই ডিসেম্বর দিবসটি পালন করবেনগাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ্যাড, জাহাঙ্গীর আলম। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শহিদ ফরহাদ হোসেনকে নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিন হবে।মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকাল থেকে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের ভাতিজা মোঃ আরিফুল ইসলাম খান শাহীনবিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান পালন করবেন।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ মানুষের এক সমাবেশে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর। মেতে ওঠে ইতিহাসের এক নির্মম ও জঘন্য গণহত্যা। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘোষণা করেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন বাঙালি জাতিকে শত্রুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যার যা আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে।
তৎকালীন সময় দেশপ্রেমিক পরিবার সাবেক কাশিমপুর ইউনিয়নের মমিন নেওয়াজ খানের সাত ছেলে এর মধ্যে আরফান আলী খান পশ্চিম পাকিস্তানের একজন সৈনিক ছিলেন। যুদ্বের আগে তিনি বিয়ে করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ছুটি নিয়েবাড়ীতে আসেন।কিন্তু তার পর দেশের পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে থাকে। ৭ই মার্চে জাতির পিতার ভাষনে অনুপ্রেণিত হয়ে সে কর্মস্থলে না গিয়ে নিজ এলাকা থেকে যুবকদেরকে নিয়ে ত্রিপুরা ভারতীয় যুদ্ধ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যান। এবং প্রশিক্ষণ শেষে কাশিমপুর ইউনিয়নের জরুন গ্রাম নিবাসী মমিন নেওয়াজ খানের সাত ছেলের মধ্যে তিন ছেলে মুক্তিযুদ্ধেঅংশগ্রহন করেন।বীরমুক্তিযোদ্ধা আরফান আলী খান ,বীরমুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম খান ও বীরমুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ হোসেন খান ৷ত্রিপুরা ভারতীয় যুদ্ধ প্রশিক্ষণ শেষেতাদেরকে এনে মমিন নেওয়াজ খানের বাড়ীতে ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করার জন্য একটি মুক্তি ক্যাম্প তৈরী করেন, সাবেক কাশিমপুর, কোনাবাড়িসহ সুরাবাড়ী গ্রামের ভিবিন্ন জায়গায় যুদ্ধে যোগদান করান তিনি। তার মধ্যে ফরহাদ হোসেন খান সাবেক কাশিমপুর ইউনিয়নের সুরাবাড়ী গ্রামের দেওয়ান বাড়ী ব্রীজের পাশে ১৫ই ডিসেম্বর সকাল ১১টায় পাক হানাদার বাহিনীরসাথে সরাসরি যুদ্ধচলাকালিন সময় শত্রুর মোকাবিলা করতে গিয়ে শহীদ হন তিনি। শহীদ পরিবারের পক্ষথেকে ভাতিজা মোঃ আরিফুল ইসলাম খান শাহীন সকলের কাছে তাদের জন্য দোয়া চান এবং তাদের কবরস্থনকে সরকারী ভাবে সংরক্ষন করার দাবী জানান।
গাজীপুর জেলা সহকারী কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্বা মোঃ কফিল উদ্দিন জানান,১৫ই ডিসেম্বর আমরা ছয়দানা মালেকের বাড়ি পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সরাসরি যুদ্ধ চলাকালিন সময় আনুমানিক সকাল ৯টা শহীদ ফরহাদ হোসেন খানসাবেক কাশিমপুর কোনাবাড়িসহ সুরাবাড়ী গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধ চলতে থাকে, তখন তিনি সাইকেল যোগে হাতে গেনেড নিয়ে রওয়া দেন পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সরাসরি যুদ্ধ করতে। তখন আমরা বাধা সৃষ্টি করে বলি সুরাবাড়ী গ্রামের পাক হানাদার বাহিনীরা অনেক, তুমি শত্রুদের সাথে একা গিয়ে কিছুই করতে পারবেনা।ফরহাদ হোসেন খান কথা না শুনে চলে যায় যুদ্ধ করতে হঠাৎ খবর আসে শত্রুর হাতে দেওয়ান বাড়ী ব্রীজের পাশে সকাল ১১টায় তার মৃত্যু হয়। খুব সাহসী একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।দীর্ঘ ৯মাস দেশের জন্য যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়ার ১দিন আগে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মলভাবে তার মৃত্যু হলে নিহতের দুই ভাই বীরমুক্তিযোদ্ধা আরফান আলী খান ও বীরমুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম খানের ¯েœহের ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ হোসেন খানের জন্যপরিবারে সদস্যরা কান্নায় ভেঙ্গে পরে।