টঙ্গীতে বিশ্ব এজতেমার দ্বিতীয় পর্বের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

প্রকাশিত

শেখ রাজীব হাসান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তাবলীগ জামাতের সা’দপন্থীদের দ্বিতীয় পর্বের বিশ^ এজতেমা। দ্বিতীয় পর্বের বিশ^ এজতেমা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রথম পর্বের সমস্ত আয়োজন থাকছে দ্বিতীয় পর্বেও। স্থানীয় প্রশাসন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেমন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যে এজতেমা ময়দানের ভেতর এবং বাহিরের নিরাপত্তাসহ সকল কার্যব্যাবস্থা সম্পন্ন করেছেন। রবিবার আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে এজতেমা মাঠ খালি করে দেয়া হয়। পরবর্তী পর্বের চারদিনের দুই দিনেই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যেগে এজতেমা ময়দানের আবর্জনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বের আয়োজনে নেতৃত্বে রয়েছেন সা’দপন্থী মুরুব্বী ওয়াসেকুল ইসলাম ও শাহাবউদ্দিন নাসিম গং। ৩দিনের এই বিশ^ এজতেমায় আমল, আখলাক, দুনিয়া ও আখেরাতে সুখ-শান্তির লক্ষ্যে দিনরাত বয়ান চলবে। সা’দপন্থীরা বলছেন, দ্বিতীয় পর্বের এজতেমাই আসল এজতেমা। এদিকে দ্বিতীয় পর্বের বিশ^ এজতেমা সুষ্ঠভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এজতেমা ময়দানে মুরুব্বীদের সঙ্গে স্থানীয় এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল সর্বশেষ বৈঠক করেন। বৈঠকে মন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, প্রথম পর্বের ন্যায় দ্বিতীয় পর্বেও সমস্ত সুযোগ সুবিধা থাকছে। মুসল্লীরা যাতে এজতেমা মাঠে আসা-যাওয়ায় কোন ধরনের সমস্যায় না পড়েন সে ব্যাপারে সব সংস্থাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এজতেমায় মুসল্লীদের আসা-যাওয়ার জন্য সড়ক, নৌ ও ট্রেন পথে বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম জানান, এজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর মাঠের ভেতরে যে পরিমাণ ময়লা আবর্জ্যনা জমা হয়েছিল তা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন সাড়ে ৪০০ পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং ২৯টি বর্জ্য পরিবহণের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। মাঠে জমে থাকা ময়লা পানি নিষ্কাশন করে ৫০০ ট্রাক বালু ফেলানো হয়েছে। এখন এজতেমার দ্বিতীয় পর্বের কার্যক্রমের জন্য ময়দান পুরোপুরি প্রস্তুত। দ্বিতীয় পর্বের বিশ^ এজতেমায় থাকছে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র্যাপব, পুলিশ ও সাদা পোশাকে থাকছে প্রায় ৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। পুরো এজতেমা ময়দান জুড়ে সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার ও মেটাল ডিট্রেক্টরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। মুসল্লীদের পানীয় জলের সুবিধার্থে প্রতিদিন ৩ কোটি গ্যালন পানি উত্তোলনের সুবিধা থাকছে এজতেমা ময়দানে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথম পর্বের মতোই দ্বিতীয় পর্বেও থাকছে সকল স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা। গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস.এম তরিকুল ইসলাম জানান, প্রথম পর্বের এজতেমা শেষে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এজতেমা ময়দান স্থানীয় প্রশাসন বুঝে নিয়ে দ্বিতীয় পর্বের মুরুব্বীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ৪ বছর ধরে দু’পর্বে একই পন্থীদের এজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। গত বছর এজতেমার একক নিয়ন্ত্রণে নিতে এজতেমা ময়দানে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কয়েকজন মুসল্লী হতাহত হন। এরপর থেকে যোবায়েরপন্থী এবং সা’দপন্থী নামে তাবলীগ জামাতের এজতেমায় দুটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়। ১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীর এই ময়দানে বিশ^ এজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।