চীনে প্রাণঘাতী ভাইরাস, সতর্কতা বাংলাদেশে

প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ‘নিউমোনিয়াসদৃশ’ প্রাণঘাতী নতুন এক ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে চীনে। নতুন এই ভাইরাসের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে বাংলাদেশ সরকার। এরই মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীন ভ্রমণ থেকে ফিরে আসা দেশি-বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করতে পরিচালনা করা হয়েছে জরুরি ওরিয়েন্টশেন কর্মসূচি। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে সতর্কতামূলকভাবে এই ভাইরাসের সংক্রমণরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং পরিচালক ‘রোগ নিয়ন্ত্রণ’ অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা নতুন ভাইরাসটি করোনাভাইরাস (সিওভি) পরিবারের বলে নিশ্চিত করেছে। চীনের হোবে প্রদেশের হুওয়ান শহরে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত (নিউমোনিয়া) এ রোগটি চিহ্নিত হয়। ইতিমধ্যেই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু ও কমপক্ষে ৪৫ জনের অসুস্থ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ২০১৯-এনসিওভি-করোনা ভাইরাসের তথ্য আমরা পেয়েছি। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সানিয়া তাহমিনা বলেন, বিশেষ করে যারা চীন থেকে আসছেন, এমন পর্যটকদের হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ ‘থার্মাল স্ক্যানার’র ভেতর দিয়ে আসতে হবে। তাদের শরীরে জ্বরের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে নিরাপত্তামূলক পরীক্ষা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, চীন ও হংকংয়ের ফ্লাইটে আসা যাত্রীদেরকে বিশেষ ধরনের স্বাস্থ্যকার্ড সরবরাহ করার মাধ্যমে স্ক্রিনিং করা, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যাসহ নতুন এ রোগের উপসর্গ রয়েছে কি না, তা যাত্রীদের কাছ থেকে জানার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের চিকিৎসকদেরকে নতুন এ রোগটি সম্পর্কে অবহিত করা হবে। এর বাইরে জনসাধারণকেও আমরা বলবো একটু সতর্ক থাকতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্স-করোনা ভাইরাসের মতো এ ভাইরাসের আক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের জ্বর অনুভূত হয়। জ্বরের তীব্রতা বাড়লে শ্বাসকষ্ট হয়। এরপর নিউমোনিয়া হয় বা হতে পারে। রোগটি ছোঁয়াচে। তবে নতুন এ চীনা ভাইরাস পশু-পাখি নাকি সামুদ্রিক মাছ থেকে সংক্রামিত হচ্ছে সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে তারা বলছেন, যেহেতু রোগটি সংক্রমিত হয়, তাই সবারই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বিশেষ করে, হাঁচি-কাশির সময় রুমাল-টিস্যু-গামছা দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নেয়া। হাঁচি-কাশিরত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করা। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা। বারবার দুই হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা। সব ধরনের ফলমূল ভালো করে ধুয়ে খাওয়া।

এদিকে, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রমণ ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার উদ্যোগে আজ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি ওরিয়েন্টশেন কর্মসূচির আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে। এ রোগটি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করতেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়।