টঙ্গীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস পালিত

প্রকাশিত

শেখ রাজীব হাসান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে নির্মিত টঙ্গীস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে ভাওয়াল বীর শহীদ আহসান উল্লাহ্‌ মাষ্টারের সুযোগ্য সন্তান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং এর পরপরই ঐতিহ্যবাহী টঙ্গী প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হায়দার সরকার ও সাধারণ সম্পাদক কালীমুল্লাহ ইকবালসহ সকল সদস্যরা।

এসময় বাজানো হয় কালজয়ী গান ‘আমার ভায়ের রক্তের রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’ পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তারা সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় সংসদ সদস্য, কূটনৈতিক, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, সাংবাদিক, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, উচ্চপদস্থ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা ও টঙ্গী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ, টঙ্গী বন্ধু সোসাইটিসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় শহীদ মিনার ও এর আশপাশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর সিনিয়র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসাবে অস্বীকার করে এবং পাকিস্তানের একমাত্র সরকারি ভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও ঢাকার সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি মিছিল বের হয়। এসময় পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও কয়েকজন নিহত হন। এরই ধারাবাহিকতায় শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাপী ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।