মাধবপুরে ১৪৯ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ

প্রকাশিত
হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি- এবারও স্থায়ী শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানাতে পারলো না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
বিশেষ প্রতিবেদক : হবিগঞ্জের মাধবপুরে ১৪৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ ২১শে ফেব্রুয়ারির আগে শেষ হওয়ার কথা থাকলে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সচেতন মহল। তাদের দাবি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের গাফিয়লতি ও উপজেলা প্রশাসনের সঠিক তদারকি না থাকায় মূলত কাজ সম্পন্ন হয়নি। যার ফলে এ বছরও স্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিতে পারলো না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
সূত্রে জানা যায়, ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সরকার দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। যার বাস্তবায়ন করছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। এসব শহীদ মিনার নির্মাণের সময়সীমা ছিল ২১ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত। অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারির আগে সবগুলো শহীদ মিনার উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এসব শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজই শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়- এখন পর্যন্ত ১৪৯টির মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ১০/১২টি শহীদ মিনারের। ৫০টির কাজ শেষ হয়েছে ৭০/৭৫ শতাংশ। আর বাঁকিগুলোর কাজ এখনও অনেক বাঁকি হয়েছে। সবগুলোর কাজ শেষ না হওয়ায় ২১ ফেব্রুয়ারির আগে উদ্বোন করার সম্ভব হয়নি একটি শহীদ মিনারও। ফলে মার্চ মাসে এসব শহীদ মিনার উদ্বোধনের চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষা অফিস।
এদিকে, শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে অনেক আশায় বুক বেঁধে থাকলেও সেই আশায় ছাই ঢেলেছে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা। ফলে এ বছরও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শহীদ ব্যদিতে ফুল দেয়া থেকে বঞ্চিত হলেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষাক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল।
তাদের দাবি, শহীদ মিনার নির্মাণে অনেকটা উদাসীন ছিলেন শিক্ষা অফিসের কর্তা-ব্যক্তিরা। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে তেমন তদারকি করেনি। যার ফলে শহীদ মিনার নির্মাণে অনেক ধির গতিতে কাজ চলে। সঠিক তদারকি থাকলে সঠিক সময়য়ে সবগুলোর কাছ শেষ করে উদ্বোধন করার সম্ভব হতো বলে দাবি করেন অনেকে।
এ ব্যাপারে মাধবপুর পৌর শহরের কাটিয়ারা এলাকার এক শিক্ষার্থীর অভিভাক সৌজিত পাল বলেন- ‘প্রতি বছরই কোমলমতি এসব শিশুরা বাঁশ-গাছ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। কিন্তু এ বছর তারা ভেবেছিল স্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দেবে। কিন্তু তাদের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।’
তিনি বলেন- ‘প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করার মূলত এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়নি। তারা ভালোভাবে কাজের দেখাশোনা করলে অনেক আগেই কাজ শেষ হতো।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন- ‘শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা যে কোন বিষয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে রাজি না। বিভিন্নভাবে হয়রাণী হতে হয় আমাদেরকে। শহীদ মিনার নির্মাণ নিয়েও তারা অনেকটা উদাসিন ছিলেন। যার কারণে এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়নি।’
এ ব্যাপারে মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দ্বিজেন্দ্র আচার্য্য বলেন, ‘একসাথে ১৪৯টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারের কাজ চলায় নির্মারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার সম্ভব হয়নি। তবে এখনও কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি মার্চে সবগুলো শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।