চট্টগ্রামে প্রেমিককে ফাঁসাতে গিয়ে বন্ধুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ….

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক-

বিয়ে করতে না চাওয়ায় প্রেমিককে ধর্ষণের মামলায় ফাঁসাতে চেয়েছিলেন চট্টগ্রামের এক তরুণী। ধর্ষণ মামলা সাজাতে বন্ধুর সঙ্গে হোটেলে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি তার।

ধর্ষণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আসল ঘটনা উদঘাটন করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে ওই তরুণীর বন্ধুকে।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন  জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এক তরুণী থানায় এসে কামরুল হাসান নামের এক তরুণের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় পুলিশও তাৎক্ষণিকভাবে মামলা গ্রহণ করে। তবে আসামিকে গ্রেপ্তারের আগে পুলিশ প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান শুরু করে।

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ধর্ষণের অভিযোগকারী তরুণী তার বন্ধু সজিব দাশ রুবেলকে নিয়ে নগরীর একটি হোটেলে ওঠেন। হোটেলের রেজিস্টারে কামরুল হাসানের নাম-ঠিকানা ব‌্যবহার করা হয়। তরুণী থানায় এসে যে কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন তার সঙ্গে হোটেলে যাওয়া তরুণের চেহারার মিল নেই। পরে পুলিশ নগরীর ইপিজেড থানা এলাকা থেকে তরুণীর বন্ধু সজিব দাশ রুবেলকে আটক করলে আসল ঘটনা ফাঁস হয়।

সজিব দাশ রুবেলের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ধর্ষণের অভিযোগ তোলা তরুণীর সাথে কামরুলের কিছু দিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই তরুণী কামরুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কামরুল বিয়ে করতে অস্বীকার করে লাপাত্তা হয়ে যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কামরুলকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন ওই তরুণী। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪ ফেব্রুয়ারি তরুণী তার বন্ধু রুবেলকে নিয়ে শহরের স্টেশন রোডের একটি হোটেলে ওঠেন। হোটেলের রেজিস্টারে কামরুলের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। হোটেলে তরুণীর সঙ্গে রুবেলের শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরদিন হোটেল থেকে বের হয়ে ওই তরুণী থানায় গিয়ে তার প্রেমিক কামরুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

পুলিশ সজিব দাশকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে। অভিযুক্ত তরুণীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।